Z7GR

ভৌতিক বাড়ি


 



ভৌতিক বাড়ি

শহরের এক প্রান্তে বহু পুরনো একটি বাড়ি, লোকেরা যাকে "ভূতের বাড়ি" বলে ডাকে। দিনের আলোতে বাড়িটি দেখতে সাধারণ মনে হলেও রাতের বেলা চারপাশে একটা অদ্ভুত গা ছমছমে ভাব ছড়িয়ে পড়ে। কেউ কেউ বলে, ভেতর থেকে মাঝে মাঝে চাপা হাসির শব্দ ভেসে আসে, আবার কেউ বলে, জানালায় ছায়ামূর্তি দেখা যায়।


একদিন, তিন বন্ধু—রিজু, অমিত, আর সাগর—সিদ্ধান্ত নিল তারা ভূতের সত্যতা যাচাই করবে। তারা মধ্যরাতে একটি টর্চ আর ক্যামেরা নিয়ে ঢুকে পড়ল সেই বাড়িতে।


বাড়ির ভেতরে ঢুকতেই বাতাস যেন ভারী হয়ে গেল। দেওয়ালে ছোপ ছোপ দাগ, ছাদ থেকে মাকড়সার জাল ঝুলছিল। তারা ধীরে ধীরে এগিয়ে গেল একটি বড় ঘরের দিকে। হঠাৎ, দরজা নিজে থেকেই বন্ধ হয়ে গেল! তিনজনই আতঙ্কে জমে গেল।


"এটা কিভাবে হলো?"—রিজু ফিসফিস করে বলল।


ঠিক তখনই, ঘরের এক কোণ থেকে একটা ফিসফিসে আওয়াজ এল, "এখানে চলে এসেছো কেন?"


অমিতের হাত থেকে টর্চ পড়ে গেল, আলোটা মাটিতে ঘুরে ঘুরে থেমে গেল এক জায়গায়। সেখানে একটা ছায়ামূর্তি দাঁড়িয়ে! দীর্ঘ কালো পোশাক, চোখ দুটো জ্বলজ্বল করছে!


সাগর চিৎকার করে দরজার দিকে দৌড় দিল, কিন্তু দরজা যেন শক্ত করে আটকে আছে! ছায়ামূর্তিটি ধীরে ধীরে তাদের দিকে এগিয়ে আসতে লাগল।


হঠাৎ, বাতাসের ঝাপটায় একটা পুরনো কাগজ উড়ে এসে পড়ল তাদের সামনে। রিজু কাগজটা তুলে দেখল—এক শতাব্দী আগে এই বাড়ির মালিক এখানে খুন হয়েছিলেন, আর সেই খুনের বিচার হয়নি!


মুহূর্তের মধ্যে দরজাটা হালকা কাঁপতে লাগল, আর ছায়ামূর্তির গলার স্বর এল, "আমার বিচার করো... না হলে তোমরা এখান থেকে যেতে পারবে না!"


বন্ধুরা ভয় পেয়ে বের হওয়ার জন্য মরিয়া হয়ে উঠল। ঠিক তখনই একটা প্রবল ঝড়ের মতো আওয়াজ হলো, আর দরজাটা হঠাৎ খুলে গেল! তিনজন দ্রুত দৌড়ে বেরিয়ে এল, আর পেছনে তাকিয়ে দেখল—সেই ছায়ামূর্তি ধীরে ধীরে মিলিয়ে যাচ্ছে...


এরপর থেকে কেউ আর সেই বাড়ির কাছে যায়নি। তবে মাঝে মাঝে রাতে, ভেসে আসে সেই চাপা ফিসফিসানি—"আমার বিচার করো..."


(শেষ

Post a Comment

0 Comments